MicroscopicMind
Saturday, June 28, 2025
পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করার জেল
জার্মানির একটি অলাভজনক স্টার্ট-আপ পানীয় জল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণের জন্য একটি জেল তৈরি করেছে৷ এটি পানি শোধনাগারগুলিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে৷
পরিবেশবান্ধব এই জেল কার্বন এবং সিলিকা দিয়ে তৈরি৷ জেলটি মাইক্রোপ্লাস্টিককে জমাটবদ্ধ করে, যা তাদের দৃশ্যমান করে তোলে৷
জেলটি উদ্ভাবন করেছে জার্মানির ভাসা ৩.০ কোম্পানি৷ এর প্রতিষ্ঠাতা কাটরিন শুয়েন বলেন, ‘‘আমাদের হাইব্রিড সিলিকা জেল একটি জাদুর আঠার মতো, যা মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলোকে একত্রিত করে৷ তারপর সেগুলো পৃষ্ঠে ভেসে ওঠে, যেখান থেকে আমরা তাদের সহজেই সরিয়ে ফেলতে পারি৷ এটা অনেক ছোট কণাকে মাত্র কয়েকটি গুচ্ছে পরিণত করে৷’
সাধারণত প্রসাধনী, পোশাক এবং শিল্প বর্জ্য পানির মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক পানি শোধনাগারে ঢোকে৷
শিল্প কারখানা থেকে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হয়৷ কিছু অংশ আসে মানুষের ঘর-বাড়ি থেকে৷ গবেষণা দল দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির একটি বর্জ্য পানি শোধনাগারে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে৷ বিশুদ্ধ পানিকে স্রোতধারার সঙ্গে মিশ্রিত করার পর আবারও পরীক্ষা করা হয়৷
কাটরিন জানান, ‘‘দুই বছরের গবেষণার পর আমরা পানি থেকে ৮৫-৯০ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি৷ এই ধরণের ফলাফল সত্যিই সন্তোষজনক৷''
বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণাগারে পানির নমুনায় ফ্লুরোসেন্ট মার্কার যুক্ত করেন৷ এগুলো তখনই সক্রিয় হয় যখন একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নমুনার উপর ফেলা হয়৷ এভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিত কতটা, তা জানা যায়৷ নমুনাটি যত বেশি জ্বলে, তাতে তত বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে বলে ধরে নেওয়া হয়৷
নিজের উদ্ভাবন অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দিতে কাটরিন বছর কয়েক আগে একটি অলাভজনক স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ এর মাধ্যমে তিনি পানি শোধনাগারসহ বিভিন্ন কোম্পানিকে পরামর্শ দেন৷
একটি অংশীদার কোম্পানি যন্ত্রপাতি বিক্রি করে৷ জেলটিও অনেক জায়গায় পাওয়া যায়৷
কাটরিন বলেন, ‘‘কোম্পানিগুলো যন্ত্রপাতি কিনে নিজেরাই প্ল্যান্ট তৈরি করতে পারে৷ কারণ, প্রক্রিয়াটা খুবই সহজ, প্রযুক্তিটিও জটিল নয়- একটা সাধারণ চুল্লি যার ভেতরে স্টারার থাকে, আর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা৷ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য এসবই যথেষ্ট৷''
পানি শোধনাগারসহ বিভিন্ন কোম্পানি, যার মধ্যে কিছু বিদেশি কোম্পানিও আছে, সিস্টেমটি ব্যবহারের জন্য কাটরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে৷
মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করার পর তা পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যেতে পারে৷ একটি চক্রাকার অর্থনীতি, যা কোম্পানিগুলোর কাছে সিস্টেমটি আরও আকর্ষণীয় করে তোলে৷
Ref:
https://www.msn.com/en-za/news/other/safer-water-with-a-microplastic-removing-gel/vi-AA1zh5s8?cvid=215fb3f466b64b30e709b1e567574976
নতুন রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা
দীর্ঘ সময় পর ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা বিশ্বের ৪৮তম নতুন রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করেছেন। নতুন রক্তের গ্রুপটি গোয়াডেলুপ নামক ক্যারিবীয় অঞ্চলের এক নারীর শরীরে। বিজ্ঞানীরা এই রক্তের গ্রুপের নাম দিয়েছেন ‘গোয়াদা নেগেটিভ’, যা ওই নারীর আঞ্চলিক পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
Indian Express থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে ওই নারী একটি সার্জারির আগে রুটিন রক্ত পরীক্ষায় অংশ নেন। তখনই তার রক্তে একটি বিরল অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয়। কিন্তু তখন পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও গবেষণা সামর্থ্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান সম্ভব হয়নি। পরে, ২০১৯ সালে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা এই বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে সক্ষম হন।এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রেঞ্চ ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট (EFS), যেটি ফ্রান্সের জাতীয় রক্ত সঞ্চালন সংস্থা। তারা এটিকে “বিশ্বে প্রথম” বলেও উল্লেখ করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই নারীই এই রক্তের গ্রুপের একমাত্র পরিচিত বাহক। এর অর্থ হলো, তার শরীরে যদি কখনো রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে কেবল নিজের রক্তই তার জন্য উপযোগী।গবেষকদের মতে, এটি বংশগত রোগ, যার ফলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মা ও বাবা উভয়েই সংশ্লিষ্ট জিনের রূপান্তরিত রূপ বহন করেন।এই রক্তের গ্রুপটি সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ ব্লাড ট্রান্সফিউশনকর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। ফ্রেঞ্চ ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট-এর বায়োলজিস্ট থিয়েরি পেয়ারার মতে, রক্তের নতুন গ্রুপ শনাক্ত করা মানে হচ্ছে বিরল রক্তধারী রোগীদের জন্য আরও উন্নত চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করা।বর্তমানে গবেষকরা চেষ্টা করছেন বিশ্বজুড়ে আরও এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে, যাদের শরীরেও ‘গোয়াদা নেগেটিভ’ রক্তধারা থাকতে পারে। এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা গেলে, ভবিষ্যতে এই বিরল গ্রুপধারীদের চিকিৎসায় অনেকটা সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Ref: https://www.livescience.com/health/she-is-the-only-person-in-the-world-compatible-with-herself-scientists-discover-new-blood-type-but-its-unique-to-just-one-person-from-guadeloupe
Thursday, June 26, 2025
২৪ ঘণ্টায় প্লাস্টিক থেকে প্যারাসিটামল: গবেষণায় যুগান্তকারী সাফল্য
প্লাস্টিক দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা—এই দুটি বড় চ্যালেঞ্জের একসঙ্গে সমাধান নিয়ে এলেন স্কটল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার গবেষকরা এমন একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন, যেখানে ই-কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে পরিত্যক্ত পিইটি (PET) প্লাস্টিককে রূপান্তর করা হয়েছে ব্যথানাশক ওষুধ প্যারাসিটামলে।
গবেষণাটি সম্প্রতি নেচার কেমিস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, প্লাস্টিকের অণুকে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভেঙে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
‘বর্জ্য প্লাস্টিকই হতে পারে ওষুধের কাঁচামাল’
অধিকাংশ সময় প্যারাসিটামল তৈরির জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আহরিত কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়। গবেষকরা বলছেন, তার পরিবর্তে যদি ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করা যায়, তাহলে ওষুধ শিল্প হবে আরও পরিবেশবান্ধব।
ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার বায়োটেকনোলজিস্ট স্টিফেন ওয়ালেস বলেন, ‘এই গবেষণা প্রমাণ করে, পিইটি প্লাস্টিক শুধু বর্জ্য নয় বা আরও প্লাস্টিক তৈরির উপাদান নয়—এটি রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত মূল্যবান পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব।’
প্রযুক্তির সুবিধা কী কী?
ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই নতুন পদ্ধতির অনেক সুবিধা রয়েছে—
দ্রুত ফলাফল: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওষুধ উৎপাদন সম্ভব।
কম পরিসরে পরিচালনা: ছোট ল্যাবেই পুরো কাজ করা যায়।
শক্তি সাশ্রয়ী: কোনো অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা করার দরকার পড়ে না; স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কাজ হয়।
শিল্পোন্নয়নে বড় সম্ভাবনা
গবেষণাটি বাস্তব পর্যায়ে নেওয়ার আগে অবশ্যই বড় পরিসরে পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গবেষকদের দাবি, এটি ওষুধ শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ দূষণ হ্রাস, গ্রিনহাউজ গ্যাস কমানো এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির পথেও বড় ভূমিকা রাখবে।
গবেষণাটি ইপিএসআরসি কেস অ্যাওয়ার্ড এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। উদ্যোগটির সঙ্গে কাজ করছে ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার বাণিজ্যিক অংশীদার এডিনবরাহ ইনোভেশনস (EI)।
EI-এর কনসালটেন্সি প্রধান ইয়ান হ্যাচ বলেন, ‘স্টিফেন ও তার দলের মতো গবেষকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতো প্রতিষ্ঠানের এই অংশগ্রহণ বিশ্বে বড় রকমের পরিবর্তন আনবে। ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই রাসায়নিক ও উপাদান তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাবে।’
Ref: https://www.nature.com/articles/d41591-025-00041-9#:~:text=26%20June%202025-,Microbes%20convert%20plastic%20waste%20into%20paracetamol,from%20a%20plastic%20waste%20product.&text=Karen%20O'Leary%20is%20an,Analysis%20Editor%20with%20Nature%20Medicine.
কৃত্রিম মানব ডিএনএ তৈরির বিতর্কিত প্রকল্প শুরু
মানুষের জীবনের মৌলিক উপাদান ডিএনএ এবং কৃত্রিমভাবে এই ডিএনএ তৈরির একটি বিতর্কিত প্রকল্প শুরু হয়েছে। বিশ্বে এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের আশঙ্কায় এই গবেষণা এতদিন পর্যন্ত একরকম নিষিদ্ধই ছিল। তবে বিশ্বের বৃহত্তম চিকিৎসা সম্পর্কিত দাতব্য সংস্থা ওয়েলকাম ট্রাস্ট এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড তহবিল দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এই গবেষণার মাধ্যমে অনেক দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় দ্রুত অগ্রগতি আনা সম্ভব। যা এই গবেষণায় ক্ষতির চেয়ে ভালো ফল বয়ে আনবে।
আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ নামক একটি অণু থাকে, যাতে থাকে আমাদের শারীরিক গঠন এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত সমস্ত জিনগত তথ্য। ডিএনএ চারটি ছোট ব্লক নিয়ে গঠিত, যাদের বলা হয়— এ, জি, সি এবং টি। বিভিন্ন বিন্যাসে বারবার পুনরাবৃত্তি হয় এই ব্লকগুলোর। মানব জিনোম প্রকল্প বিজ্ঞানীদেরকে মানব জিনগুলোকে একটি বারকোডের মতো পড়তে সাহায্য করেছে। এখন যে নতুন কাজ শুরু হচ্ছে, যার নাম 'সিন্থেটিক হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট', যা এই অগ্রগতিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি গবেষকদের কেবল ডিএনএ অণু পড়তে নয়, বরং এর বিভিন্ন অংশও তৈরি করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিমভাবে একটি মানব ক্রোমোজোম তৈরির আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের প্রথম লক্ষ্য হল মানব ডিএনএর বড় ব্লক তৈরির পদ্ধতির বিকাশ ঘটানো। মানব জিনোমের সবচেয়ে বড় অংশ সিকোয়েন্স করেছিলেন ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ম্যাথিউ হার্লেস। তার মতে, এই কৃত্রিমভাবে তৈরি উপাদানগুলো নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে, যা জিন এবং ডিএনএ কীভাবে আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে সে সম্পর্কে আরো জানতে সাহায্য করবে। অনেক রোগই ঘটে যখন এই জিনগুলো ভুলভাবে কাজ করে। তাই এই গবেষণাগুলো চিকিৎসাকে উন্নত করবে।
এই প্রকল্পের কাজ পরীক্ষাগারের টেস্টটিউব এবং ডিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কৃত্রিম জীবন তৈরির কোনো প্রচেষ্টা করা হবে না। এই প্রকল্পের লক্ষ্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধা, তবে অসাধু বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারেন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্বের বিজ্ঞানী প্রফেসর বিল আর্নশ কৃত্রিম মানব ক্রোমোজোম তৈরির একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। তার মতে, বিজ্ঞানীরা জৈবিক অস্ত্র, উন্নত মানুষ, এমনকি মানব ডিএনএ সহ প্রাণী তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তিনি বিবিসি নিউজকে বলেছেন—‘দৈত্য বোতল থেকে বেরিয়ে এসেছে। আমরা এখন কিছু বিধিনিষেধ রাখতে পারি। কিন্তু যদি কোনো সংস্থা উপযুক্ত যন্ত্রপাতির অ্যাক্সেস পেয়ে কিছু তৈরি করা শুরু করে, তবে আমি মনে করি না আমরা তাদের থামাতে পারব।‘
Ref:https://www.bbc.com/news/articles/c6256wpn97ro
বাতাসে ভিজে গলে যাচ্ছে প্লাস্টিক, তৈরি হবে মূল্যবান কাঁচামাল
প্লাস্টিক বর্জ্যকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পরিবেশগত উদ্বেগ। তবে এবার আশার আলো দেখিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা বাতাসে থাকা আর্দ্রতা ব্যবহার করে খুব সহজেই পলিথিলিন টেরেফথালেট (PET) ধরনের প্লাস্টিক ভেঙে ফেলতে সক্ষম।
এই প্রক্রিয়ায় মাত্র চার ঘণ্টায় ৯৪ শতাংশ প্লাস্টিক ভেঙে পরিণত হয় টেরেফথালিক অ্যাসিড (TPA)-এ, যা পলিয়েস্টার তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয়, এই TPA-কে আরও মূল্যবান উপকরণে পরিণত করাও সম্ভব। ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল Green Chemistry-তে।
গবেষণার সহলেখক এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহকারী অধ্যাপক ড. ইয়োসি ক্রাটিশ বলেন, ‘আমরা বাতাসে থাকা স্বাভাবিক আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে এক অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্লাস্টিক ভেঙে ফেলেছি। এটি শুধু পুনর্ব্যবহার নয়, বরং আরও উন্নত উপকরণ তৈরির পথও খুলে দিচ্ছে।’
পরিবেশের জন্য বড় সম্ভাবনা
ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থার (EEA) তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর বিশ্বে যত প্লাস্টিক তৈরি হয়েছে, তা মোট উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি। আর এই উৎপাদন ২০৫০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ এতদিনের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি প্লাস্টিক টিকে আছে দীর্ঘকাল, পরিবেশ ও প্রাণীর জন্য ঝুঁকি হয়ে।
নতুন পদ্ধতিতে PET প্লাস্টিককে গলিয়ে তাতে মোলিবডেনাম ধাতু (এক ধরনের নমনীয় রুপালি ধাতু) ও অ্যাক্টিভেটেড কার্বনের মিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়। এরপর সাধারণ বাতাসে রেখে দেওয়া হয়। এতে প্লাস্টিক ভেঙে তৈরি হয় TPA ও অ্যাসিটালডিহাইড—উভয়ই শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান।
আগের তুলনায় সহজ ও নিরাপদ
সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়ায় ভাঙা হয় শুধুমাত্র পলিয়েস্টার জাতের প্লাস্টিক। তাই প্লাস্টিক আলাদা করে বাছাই করার দরকার পড়ে না। বোতল, রঙিন কাপড়, এমনকি টি-শার্ট থেকেও তৈরি করা সম্ভব নির্দিষ্ট, স্বচ্ছ TPA।
ড. ক্রাটিশ জানান, ‘যখন আমরা অতিরিক্ত পানি দিয়েছিলাম, তখন প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়। অর্থাৎ বাতাসে থাকা স্বাভাবিক আর্দ্রতাই যথেষ্ট।’
বড় পরিসরে ব্যবহার হবে ভবিষ্যতে
গবেষণার প্রধান নাভিন মালিক বলেন, “এই প্রযুক্তি শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমাবে না, বরং একটি ‘সার্কুলার ইকোনমি’ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যেখানে উপকরণ বারবার ব্যবহার হবে। এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সবুজ ভবিষ্যতের দিকেই অগ্রসর হওয়ার বাস্তব পদক্ষেপ।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আবিষ্কার আমাদের ভবিষ্যতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উৎপাদননীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে এটি বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়ন হয়।
Ref: Geeen journal
Monday, June 23, 2025
প্লাস্টিকের চেয়েও ৫০ গুণ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক, ঝুঁকি বেশি কাচের বোতলেই
সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—কাচের বোতলে প্লাস্টিকের বোতলের চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, কাচের বোতল অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। কিন্তু ফ্রান্সের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা ANSES পরিচালিত এ গবেষণা সেই ধারণার পুরোপুরি বিপরীত ফলাফল দেখিয়েছে।
‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, কোমল পানীয়, লেমনেড, আইস টি ও বিয়ারজাতীয় পানীয়ের কাচের বোতলে প্রতি লিটারে গড়ে ১০০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে—যা প্লাস্টিক বা ধাতব বোতলের তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বেশি।
গবেষণা পরিচালনাকারী পিএইচডি শিক্ষার্থী ইসেলিন শাইব বলেন, ‘আমরা এর সম্পূর্ণ বিপরীত ফল আশা করেছিলাম। শুরুতে মনে করেছিলাম, কাচের বোতল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হবে। কিন্তু ফলাফল আমাদের চমকে দেয়।’
গবেষণায় দেখা গেছে, কাচের বোতলের পানীয়তে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, সেগুলোর রঙ, গঠন ও রাসায়নিক গঠনের সঙ্গে বোতলের মুখবন্ধকারী ক্যাপের বাইরের রঙ মিলে গেছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বোতলের মুখ বন্ধের সময় ব্যবহৃত রঙ বা পেইন্ট থেকেই এসব কণা পানীয়তে মিশছে।
গবেষকরা জানান, ‘বিশেষ করে কাচের বোতলের ক্যাপের (মুখ) বাইরের অংশে ব্যবহৃত রঙ থেকে কণা গুলো পানীয়তে ছড়াচ্ছে।’
সকল ধরনের বোতলের মধ্যে বিয়ারের বোতলে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে—গড়ে প্রতি লিটারে ৬০টি কণা। এরপর রয়েছে লেমনেড, যেখানে কণার হার প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে ফ্ল্যাট ও স্পার্কলিং পানিতে তুলনামূলকভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা কম—কাচের বোতলে প্রতি লিটারে ৪.৫টি এবং প্লাস্টিকের বোতলে ১.৬টি কণা।
সমাধান কী?
ANSES জানিয়েছে, একটি সম্ভাব্য সমাধান তারা পরীক্ষা করেছে। বোতলের ক্যাপগুলোকে পানির সাথে এথানল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হলে প্রতি বোতলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত কমে আসে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক: একটি বৈশ্বিক হুমকি
১৯৫০ সালে যেখানে প্লাস্টিক উৎপাদন ছিল ১৫ লাখ টন, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ মিলিয়ন টনেরও বেশি। এর অধিকাংশই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, যা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার অভাবে স্থলভূমি ও সমুদ্র দূষিত করছে।
পাঁচ মিলিমিটারের ছোট এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা ইতোমধ্যে মেরিয়ানা ট্রেঞ্চ থেকে শুরু করে মাউন্ট এভারেস্ট পর্যন্ত, এমনকি মানব মস্তিষ্ক, গর্ভনালীর প্লাসেন্টা ও গভীর সমুদ্রের মাছের পেটেও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কণার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হতে পারে, যা এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। কাচের বোতল নিরাপদ—এই ধারণা এখন আর আগের মতো সহজে গ্রহণযোগ্য নয়।
Ref:
https://www.nature.com/articles/s41557-025-01863-3
Subscribe to:
Posts (Atom)
পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করার জেল
জার্মানির একটি অলাভজনক স্টার্ট-আপ পানীয় জল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণের জন্য একটি জেল তৈরি করেছে৷ এটি পানি শোধনাগারগুলিতে প্রয়োগ করা হচ্...
-
দীর্ঘ সময় পর ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা বিশ্বের ৪৮তম নতুন রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করেছেন। নতুন রক্তের গ্রুপটি গোয়াডেলুপ নামক ক্যারিবীয় অঞ্চলের এক নার...
-
প্লাস্টিক দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা—এই দুটি বড় চ্যালেঞ্জের একসঙ্গে সমাধান নিয়ে এলেন স্কটল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। ইউনিভার্সিটি অব ...
-
সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—কাচের বোতলে প্লাস্টিকের বোতলের চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। দীর্ঘদিন...